ঢাকা, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সেনা আইনে হবে মেজর মোজাফফরের বিচার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার সামরিক আদালতের মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একই ঘটনার জন্য একদিকে সামরিক আইন এবং অন্যদিকে প্রচলিত ফৌজদারি আইনে একযোগে বিচার পরিচালনার সুযোগ নেই। তাই বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সামরিক আদালতেই তার বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।


সোমবার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদর দপ্তর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানী থেকে মোজাফফর হোসেনকে আটক করা হয়। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যাতে প্রচলিত সামরিক বিধি অনুযায়ী বিচার সম্পন্ন করা যায়।মন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় অভিযুক্ত অন্য সামরিক কর্মকর্তাদের বিচার অতীতে সামরিক আদালতেই সম্পন্ন হয়েছিল। সেই বিচারিক কার্যক্রমে যেসব সিদ্ধান্ত ও পর্যবেক্ষণ রয়েছে, সেগুলোও বর্তমান বিচার প্রক্রিয়ায় বিবেচনায় নেওয়া হবে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে বিচার বিলম্বিত হলেও গ্রেপ্তারের পর আইন অনুযায়ী প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, সামরিক আদালতের রায় ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে। তবে একই অভিযোগে একসঙ্গে দুটি পৃথক আইনি কাঠামোর অধীনে বিচার করার সুযোগ নেই। এ কারণে সামরিক আদালতের বিচারই অগ্রাধিকার পাবে।


মোজাফফর হোসেনের সহযোগীদের বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত বা অন্য কোনো মামলা হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রে সামরিক আইনই কার্যকর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব বিধি অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পরে যদি কোনো দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বিষয় সামনে আসে, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তা বিবেচনা করা হবে।


সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রতিবেশী দেশের চলমান সংঘাতের কারণে সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ads
ads
ads

Our Facebook Page